একটি পাল্টা ঘূর্ণি ফারকুহারকে ধরে অর্ধেক বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে ফেলেছিল; সে আবার দুর্গের বিপরীত তীরের জঙ্গলের দিকে তাকিয়েছিল। একঘেয়ে গানের মধ্যে এবার স্বচ্ছ, উচ্চ কণ্ঠের একটি শব্দ তার পিছনে মন্দ্রিত হয় এবং এক স্বতন্ত্র তীব্রতার সাথে জলের ধারে এসে অন্য সমস্ত শব্দকে এমনকি তার কানে ঢেউয়ের আঘাতকে ভেদ করে এবং তাকে বশীভূত করে ফেলছিল। যদিও সে কোন সৈনিক ছিল না, কিন্তু ঘন ঘন সেনাচ্চউনি তে যাতায়াতের ফলে এই ইচ্ছাকৃত, একটানা, উচ্চাকাঙ্খিত নির্ঘোষের তাত্পর্য ও অভিঘাত বোঝার ক্ষমতা তার ছিল ; কতটা ঠাণ্ডা এবং নির্মমভাবে—কী সমান, শান্ত স্বরে, এবং সৈন্যদের মধ্যে প্রশান্তি ও প্রসন্নতা ছড়িয়ে —কী নির্ভুল পরিমিত ব্যবধানে সেই নিষ্ঠুর শব্দগুলি আউরে যাচ্ছিলেন লেফটেন্যান্ট: "কোম্পানি!... মনোযোগ!... কাঁধে অস্ত্র!... প্রস্তুত!... লক্ষ্য!...ফায়ার!" ফারকুহার ডুব দিয়েছিল - যতটা গভীরে পারে, ডুব।
অনুবাদ/ভাষান্তর
পাতাল প্রহর
ওয়ারওইক সামনে পা বাড়ালো, এগোতে এগোতে এমন জায়গায় এসে পৌঁছাল যেখানে ওদের মাথায় উপর মিল এর দেওয়াল শেষ হয়ে গেছে। হল এবার আলোটা উপর দিকে জ্বালতেই তার আশঙ্কার পূর্বাভাস সার্থক হল। ইঁদুরগুলি এগিয়ে এসেছে ওদের দিকে নিঃশব্দ মৃত্যুর মতন। ভীড় করে, শ্রেণীবদ্ধ সৈন্যদের মতন। হাজার হাজার চোখ লোভাতুর চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানো সারির উচ্চতা প্রায় মানুষের হাঁটুর কাছাকাছি।
নিশিবৃক্ষ
কামরার ভিতরটা অতীত বৈভবের স্মৃতিচিহ্ন , ক্ষয়িষ্ণু অন্দরসজ্জার লাল পশমি সীটের বিভিন্ন অংশ ন্যাড়া, আয়োডিন রঙ্গা কাঠের হাতল এর খোসা ছেড়ে এসেছে। সিলিং এর বহু প্রাচীন কপার বাতিটা একই সাথে স্বপানলু এবং বেখাপ্পা। বিষণ্ণ নিষ্প্রাণ ধোঁয়ার চাদর ভেসে রয়েছে ভিতরে, আর কামরার ঘিঞ্জি ভাবটা পরিত্যক্ত স্যান্দউইচ, আপেলের খাওয়া টুকরো, কমলা লেবুর পচা খোসার গন্ধকে তীব্র করে তুলেছে। বিভিন্ন জঞ্জাল যেমন লিলি কাপ, সোডার বোতল, কোঁচকান খবরের কাগজ ছড়িয়ে আছে গোটা আইল জুড়ে। দেওয়ালে লাগানো ঠাণ্ডা পানীয়জলের কল থেকে সমানে জলের ফোঁটা ঝরে পড়ছে মেঝেতে।
এমিলির গোলাপ
বৃদ্ধ নিগ্রো ভৃত্য তাদের এক আবছায়া, ছোট হলঘরের মধ্যে প্রবেশ করায় যেখান থেকে একটি সিঁড়ি আরও ছায়াঘন স্থবির অন্ধকারে উঠে গেছে। চারিপাশে জমাট ধুলো এবং অপব্যবহারের গন্ধ - এক বদ্ধ পরিত্যক্ত গন্ধ। নিগ্রো তাদের সিঁড়ি বেয়ে পার্লারে নিয়ে আসে। চামড়া মোড়া ভারী আসবাবে সাজানো ঘরটি। ভৃত্যটি ঘরের জানালার কয়েকটি খড়খড়ি খুলতেই, তারা দেখতে পান সেই চামড়ার মোড়কের অধিকাংশ ই জীর্ণ; তার উপর বসতেই, পাতলা ধুলোর এক অলস আস্তরণ, তাদের থাই এর উচ্চতায় ভেসে উঠে, বাতাসে পাক খেতে থাকে, তীর্যক সুর্য রশ্মির গা বেয়ে। ফায়ারপ্লেস এর সামনে, গিল্টি করা মলিন ইজেল এর উপর, ক্রেয়নে আঁকা, এমিলির পিতার পোর্ট্রেট টাঙানো ছিল।
আড়াল ( পর্ব ১০-১৭)
©2020 http://WWW. golpoba-gish.com. ALL RIGHTS RESERVED
আড়াল ( পর্ব ১-১০)
১. আড়াল ২.সোমনাথের চিঠি ৩. সোমনাথের ডাইরি ৪. অরণ্যের গহীনে ৫. সোমনাথের শেষ চিঠি? ৬. মেহফিল বার ৭. বিপদ সংকেত ও সন্ন্যাসী ৮. শ্বাপদ ৯. দীর্ঘ রাত্রি
অনিকেতের গল্প
প্রান্তিকের সে দায় নেই। ওর বাবা-মা দুজনেই ভালো চাকরি করতেন। তাদের জমানো টাকা সবই পেয়েছে তার সাথে শহরের পুরনো সম্ভ্রান্ত এলাকায় পৈতৃক বসতবাড়ি, আজকের বাজারে মোক্ষম দাম পাবে বিক্রি করলে। ওর বউও স্কুলে পড়ায়। সুখী সংসার। প্রতি শনিবার ট্রেন ধরে বাড়ি ছুটতে হয়না অনিকেতের মতন। দ্রুত পদোন্নতির চিন্তা না করলেও চলবে ওর কিন্তু অনিকেতের সেই অবস্থা নয়। মা'র স্বাস্থ্য ভেঙে যাচ্ছে দিনদিন। তাকে শহরে নিয়ে আসতে হবে।বেশিদিন আর মফস্বলে ফেলে রেখে এই যাতায়াত সম্ভব নয়। ঋত্বিকার সঙ্গেও সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে গেলে শহরে স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করতেই হবে।
বেনুমিয়াঁর গল্প
রচনাঃ পিয়াল দাস পূর্ব কথা:আকাশে গ্রীষ্মের মেঘ জড়ো হয়েছে ।কালবৈশাখীর আভাস।গরমে শ্বাস নিতেও যেন কষ্ট হচ্ছে। টুকটুকি আবার মা হবে। এই নিয়ে তিনবার। আগের দু'বার মেয়ে হয়েছিল। একটা তিন দিনের মাথায় মারা যায়। পরেরটা তবু বছরখানেক বেঁচেছিল।কিন্তু যত দিন যাচ্ছে তার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে,ভয়ংকর সব দৃশ্য সারাক্ষণ তার চোখের সামনে ঘোরে।অচেনা অজানা লোকজন সবসময়… Continue reading বেনুমিয়াঁর গল্প
UBINAM
শান্তনব রায় রচনাঃ শান্তনব রায় ১ভোর রাত থেকেই আবার তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া ফোরকাস্টে বলেছিল আগামীকাল বৃষ্টি কমে যাবে কিন্তু এখন যা অবস্থা তাতে এই বৃষ্টি সহজে থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। গত দু'দিন ধরে অকালবর্ষণ। মাঝরাতে পৃথার ঘরের জানলাটা ঝোড়ো হাওয়ায় খুলে গেছিলো। জলের ছাঁট ঢুকে বিছানার অনেকটা অংশ ভিজিয়ে দিয়েছে। ইশ!… Continue reading UBINAM
অন্তিম পর্ব : ভেজা হাওয়া
এর আগে: আশাবরী আবিষ্কার করে যে অরুন্ধতী বাসুই ধ্রুপদের মা। নিজের ডিভোর্সের খবরে আশাবরী ভেঙে পড়লে ধ্রুপদ ওকে কাছে টেনে নেয়। Bangalore মহসিন ইকবাল নিজের রিয়েল এস্টেটের অফিসে বসে সামনের তিন বছরের প্রোজেক্টগুলোর দিকে ল্যাপটপে চোখ বোলাচ্ছিলো। করাইকুড়ির কাজগুলো খুবই ধীরে এগোচ্ছে এবার এগুলোকে তাড়া দিতে হবে।রিয়েল এস্টেট নয়তো লাটে উঠবে।ফোনটা তুলে নিয়ে একটা নম্বর… Continue reading অন্তিম পর্ব : ভেজা হাওয়া