দক্ষিণ দুয়ার, ধারাবাহিক কাহিনী

অন্তিম পর্ব : ভেজা হাওয়া

এর আগে: আশাবরী আবিষ্কার করে যে অরুন্ধতী বাসুই ধ্রুপদের মা। নিজের ডিভোর্সের খবরে আশাবরী ভেঙে পড়লে ধ্রুপদ ওকে কাছে টেনে নেয়।
Bangalore

মহসিন ইকবাল নিজের রিয়েল এস্টেটের অফিসে বসে সামনের তিন বছরের প্রোজেক্টগুলোর দিকে ল্যাপটপে চোখ বোলাচ্ছিলো। করাইকুড়ির কাজগুলো খুবই ধীরে এগোচ্ছে এবার এগুলোকে তাড়া দিতে হবে।রিয়েল এস্টেট নয়তো লাটে উঠবে।ফোনটা তুলে নিয়ে একটা নম্বর ডায়াল করলো। ওপার থেকে ফোনটা রিসিভ করেই একজন বললো
“কি ব্যাপার এত রাতে?”

“একটা ছোট কাজ আছে। তবে কাজটা জরুরি।”

“বলো”

“অন্যান্য ক্ষেত্রে আমি নিজেই এসব ডিল করে নিই কিন্তু এক্ষেত্রে ঠিক সরাসরি জড়াতে চাইছিনা।”

“কাজটা কি বলো।”

মহসিন ওপারের লোকটিকে কাজটা বুঝিয়ে দিলো।
আর শেষে বললো
-“শোনো ক্লিন ডিল কোরো। নো হোমিসাইড।”

ওপারের লোকটা বললো
“বুঝেছি। তবে এখন একাজে রিস্ক আছে। তোমার বাজেট বাড়বে।”

একটু ভেবে নিয়ে মহসিন বললো

“ঠিক আছে।কিন্তু নেক্সট মাসের আগেই হয়ে যাওয়া চাই।”

“ওকে”

মহসিন ফোন রেখে দিলো। আজ অবধি এরকম খুব কমই হয়েছে যে ওর চোখ পড়েছে আর সেই জিনিসটা ওর হাতের মুঠোয় আসেনি।

Karaikudi

..
আশাবরী রাতের স্নান সেরে গোলাপি তোয়ালে জড়িয়ে এসে দাঁড়ালো,ধ্রুপদের বেডরুমের দরজায়। ধ্রুপদ আধশোয়া বিছানায় সিগারেট ধরিয়েছিলো,আশাবরীকে মৃদু আলোয় অমনভাবে দেখে সিগারেট টানতে ভুলে গেলো।আশাবরীর এলোমেলো আধভেজা চুল মুখ ঢেকে দিচ্ছে,ওর চোখদুটো শুধু ঢাকতে পারেনি।আশাবরী ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো ধ্রুপদের কাছে,ধ্রুপদ আশাবরীকে পাগলের মতো চুমু খেতে শুরু করলো,ঠোঁট থেকে চুম্বন ছড়িয়ে পড়ছে সারা শরীরে। তোয়ালের আলিঙ্গন ছিন্ন হচ্ছে আশাবরীর। প্রবল আবেশে আশাবরী ধ্রুপদের মাথার চুল টেনে ধরছে। ধ্রুপদ আরো গভীরভাবে পেতে চাইছে আশাবরীকে। আশাবরীর আঙ্গুল ধ্রুপদের শরীরে আঁকিবুকি কাটছে।ধ্রুপদের শরীরের সাথে মিশে যেতে যেতে মনে হলো আশাবরী ওর শরীরে আত্মার অস্তিত্ব আজ উপলব্ধি করতে পারছে।বারবার মনে হচ্ছে শরীরের বাইরে কোথাও ধ্রুপদের সাথে ওর যোগাযোগ রয়েছে।খুব সূক্ষ্ণ, কিন্তু তীব্র,যাকে হয়তো এড়িয়ে যাওয়া চলে কিন্তু অস্বীকার করা যায় না।
সমস্ত ভালোবাসা উজাড় করে দুজনে যখন ক্লান্ত তখন আশাবরীর কপাল থেকে স্বেদবিন্দু ঝরে পড়ছে ধ্রুপদের বুকে,ধ্রুপদ আশাবরীর মাথায় বিলি কেটে দিতে থাকে,আশাবরীর চোখ বুজে আসে ।
আশাবরী জড়ানো গলায় বলে,
-“একটা কথা বলি?তোমার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত,কিন্তু আমি তোমাকে অনুরোধ করবো, অরুন্ধতী বাসু,মানে তোমার মায়ের সাথে দূরত্ব মেটানো কি খুব কঠিন?তুমি চাইলেও কি পারোনা তাকে তোমার জীবনে ফিরিয়ে আনতে?ছেলের কাছে তাঁর যে ভালোবাসা প্রাপ্য সেটা দিতে?”

ধ্রুপদ কিছুক্ষণ মন দিয়ে শোনার পর বললো

-“লন্ডনে থাকাকালীন মা আমাকে কিছু দিন নিজের সঙ্গে থাকতে বলেছিলো।স্কারলেটের ঘটনার পর আমার তখন মানসিক অবস্থা বেশ খারাপ। অস্বীকার করবোনা যে তখন মা আর নিক হেফনার পাশে না থাকলে আমার পক্ষে সামলে ওঠা খুবই কঠিন হতো। মা এই বাড়ি ছেড়ে কেন গিয়েছিলো তার পুরোটাই আমাকে মা বলেছিলো। কিন্তু আমি সামহাউ মা’র আমাকে আর বাবাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনাটা পুরোপুরি মেনে নিতে পারিনি। বিশেষতঃ বাবার মৃত্যুর সময়টা। আজ আমার জীবনে বাবার অবদান অনস্বীকার্য। আমি যা হতে পেরেছি, তার পেছনে আমার বাবা আর এবাড়িতে ভেলাম্মা ও গনেশাপ্পা ছাড়া বিশেষ কেউ ছিলো না।”

আশাবরী এবার একটু হেসে বললো
-“অথচ তোমার মধ্যে অরুন্ধতীর একটা প্রচ্ছন্ন ছায়া কি প্রমিনেন্ট! বিশেষতঃ তোমাদের মানুষের সঙ্গে ব্যবহার আর এসথেটিকসগুলো দারুণভাবে মেলে”!

ধ্রুপদের খুব অবাক লাগলো আশাবরীর কথায়। আশাবরীর মতো কেউ কখনো এভাবে কাছ থেকে বিষয়টা দেখে নি। কেউ ওকে বোঝায়নি যে মায়ের প্রতিও ওর কিছু কর্তব্য আছে। ধ্রুপদ সারাজীবন মায়ের কাছ থেকেই কর্তব্যের ভাগটুকু দাবি করে এসেছে। অথবা সেটার অভাব হওয়ায় অভিমান করেছে কিন্তু আশাবরী আবদারের ছলে কতো সহজে এই প্রসঙ্গ ধ্রুপদের সামনে তুলে ধরলো। মা’র সাথে ঠাকুরদা যে ব্যবহার করেছিলেন তার জন্য বাবা তো নিজেকে কোনোদিনই ক্ষমা করে উঠতে পারেননি,তাই এই বিষয়ে ধ্রুপদের সাথে আলোচনা এড়িয়েই চলতেন। ধ্রুপদ একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো,তারপর বাচ্চা মেয়েকে প্রবোধ দেবার মতো করে আশাবরীকে বললো
-,”মায়ের আর আমার জীবন অনেক আলাদা হয়ে গেছে,আমি চাইলেও সত্যি অনেক দূরত্ব পার করতে পারিনা। কিন্তু তুমি আজ যা বললে তাতে এইটুকু বলতে পারি,আমি চেষ্টা করবো,মাকে যাতে আমার জন্যে কষ্ট পেতে না হয়।”
আশাবরী তৈরী হতে হতে বললো
-“উনি তোমার অভাব প্রতিনিয়ত বোধ করেন।আমি বুঝতে পারি।ওঁনার বাড়ির দেয়ালে তোমার একটি ওয়ালআর্ট ঝুলছে দেখে আমি আশ্চর্য্য হয়েছিলাম,আজ সেটা দেখেছিলাম বলেই বুঝতে পারি,তোমাকে চোখের সামনে,নিজের স্পর্শের অধিকারে না পেলেও,তোমার শিল্পীসত্তা,তোমার সৃষ্টিকে সারাক্ষণ উনি নিজের সামনে রেখেছেন।”
আশাবরী বলে চলেছে,ধ্রুপদের কি আজ অনেকদিন পর চোখের কোণে জল এলো?উষ্ণ কোনো অনুভূতি যেনো চোখের বাঁধন ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে চাইছে,মুক্ত হতে চাইছে।
তবে ধ্রুপদের কথায় আশাবরী ভীষণ খুশি।ধ্রুপদ ওর অনুরোধ রক্ষা করবে।

চেন্নাই ফেরার সময় হয়ে গেছে।ধ্রুপদ আশাবরীকে ছাড়তে এয়ারপোর্ট অব্দি এলো,আশাবরীর খুব মনখারাপ।ধ্রুপদ আশাবরীকে শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরে বললো,
-“তোমার জন্মদিনে দেখা হচ্ছে।”
আশাবরী আনন্দের আতিশয্যে কিছু বলতেই পারলোনা।

Indiranagar, Chennai

চেন্নাই ফিরে আশাবরী যে ব্যাপারটা এড়াতে চাইছিলো সেটাই আগে করতে হলো। রাজীব ডিভোর্সের আগের গৌরচন্দ্রিকাটা একটা সম্মানীয় জায়গা থেকে যদি মিটিয়ে ফেলতো সেক্ষেত্রে আশাবরী শত আঘাত পেলেও সামলে নিতো। কিন্তু তা হয়নি, বরঞ্চ আরো কুৎসিত জায়গায় চলে গেছে। রাজীব আশাবরীর বাবা-মা কে ফোনে অযাচিত অপমান তো করেইছে সঙ্গে আশাবরী যে চূড়ান্ত এক দুশ্চরিত্র মেয়ে সেটা নিয়েও লম্বা ফিরিস্তি দিয়েছে। আশাবরীর বাবা ব্যাপারটাতে খুবই আহত হয়েছেন। কিন্তু মেয়ের পক্ষ নিয়ে কিছু বলার সাহসও হয়নি ওদের। এটাই আশাবরীর চিরজীবনের ক্ষোভ। যাকগে! আপাতত এই ব্যাপারটা যাতে খুব তাড়াতাড়ি চুকে যায় তার চেষ্টা করতে হবে। রাজীব ওর কাছে এখন সম্পূর্ণ একটা অন্য মানুষ। অচেনাই একরকম। মাঝারি মাপের একটা ইমেল লিখলো রাজীবকে। অফিসিয়াল কাগজপত্র তৈরি, উকিল ইত্যাদিতে কি করতে হবে, কি খরচ পড়বে তা যেন রাজীব কোনো দ্বিধা না করেই জানিয়ে দেয়। আদালতে কবে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে সেগুলোও একটু তাড়াতাড়ি করলে ভালো হয়। লিখলো,কিন্তু কোনোরকম বিদ্বেষ বা ক্ষোভ প্রকাশ করলোনা। আশাবরী ভালোই জানে যে এক্ষেত্রে যত স্বাভাবিক ব্যবহার করবে রাজীব ততোটাই বেশি ধাক্কা খাবে।

এরপর একটা চমৎকার মেল লিখলো অরুন্ধতীকে। খুব বেশি কিছু নয়। শুধু ধ্রুপদের সঙ্গে যে ওর বেশ কিছুদিনের আলাপ আর করাইকুড়ির বাড়িতে গেছে এটুকুই। মনে মনে একটা গৎ গুনগুন করে উঠলো,মেলটা পাঠাবার পর।

এর মাঝে ধ্রুপদের সঙ্গে দু’রাত টানা ফোনে আর ওয়াটসাপে কথা চলেছে। ধ্রুপদ কবে চেন্নাই আসবে সেই নিয়ে ভিতরে ভিতরে বেশ উত্তেজিত হয়ে আছে আশাবরী। তার মাঝেই আবার নীহারিকা ফোন করলো একদিন। ডিভোর্সের খবরটা নীহারিকা শুনেছে কিন্তু আশাবরী যে ব্যাপারটা নিয়ে বেশী কথা বলতে চাইছেনা সেটা বুঝতে পারলো। এরপর একথা সেকথায় করাইকুড়ি যাওয়ার কথা উঠতেই নীহারিকা ফুট কাটলো
_” আপনি কি দ্বিতীয় বিবাহের কথা ভাবিতেছেন রাজকুমারী”!?
-“তুই পাগল নাকি! এক বিয়েতেই এই দশা হলো আমার, আবার বিয়ে!?” আশাবরী বললো।
– “হুম কিন্তু গলায় তো সেরকম সুর বাজছে না সখী”! নীহারিকা রসিকতা করে।
– “তুই রাখতো এবার। অনেক কাজ বাকি। আমায় এখন লিখতে বসতে হবে”।

নীহারিকা আরও কিছুক্ষণ একথা সেকথা বলে ছেড়ে দিলো।

আজ আশাবরীর জন্মদিন।মাসিমণি সকাল বেলায় পায়েস রান্না করেছিলো।ধ্রুপদের ফ্লাইট সকালে এখানে পৌঁছাবে।আজ একসাথে লাঞ্চ করার কথা দুজনের আশাবরী গোলাপি শাড়ি পড়বে।সকাল থেকে একশোটা শাড়ি বেছে এই শাড়িটাই মনে ধরেছে।মাসিমণি ওকে দেখছে আর হাসছে।মেসোও একটু মজা করলো ওর হাব ভাব দেখে।আশাবরী কোনো কিছুই গায়ে মাখছেনা।ওর মন জুড়ে শুধু স্প্রিং ওয়াল্টজের মতো সুর বাজছে।
ব্রেকফাস্ট খাওয়ার পর একটু এপাশ ওপাশ গড়িয়ে নিলো,তারপর স্নান করে তৈরী হলো আশাবরী।ধ্রুপদের ফ্লাইট ল্যান্ড করেছে হয়তো।আশাবরী যেতে চেয়েছিলো ধ্রুপদকে আনতে কিন্তু ধ্রুপদ বার্থডে গার্লকে কোনোমতেই কষ্ট দিতে চায়না।

আশাবরী দোতলার বারান্দায় বসে আছে।নিচে রাস্তা দেখা যাচ্ছে।ধ্রুপদকে ঠিকানা বলে দেয়া আছে,তবু আশাবরী ফোন করলো দু’বার।আউট অফ রিচ বলছে।আশাবরী ভাবলো এয়ারপোর্ট থেকে বেরোয়নি বোধহয় বা বেরিয়ে ফোনের ফ্লাইট মোড বন্ধই করেনি।যা বেখেয়ালি!আশাবরীর হাসি পেলো।

Karaikudi

ধ্রুপদের আজকে একটু বেশি তাড়াহুড়ো। এয়ারপোর্টে পৌঁছতে হাইওয়ে দিয়ে ঘন্টা খানেক লাগবে কিন্তু সে একটু আগেই পৌঁছাতে চায়। কারণ একে তো ভোররাতে রওনা হচ্ছে,তার ওপর শেষ তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা একটু খারাপ হয়ে আছে। ওর ফ্লাইটটা ভোরের দিকে,বাড়ি থেকে বেরিয়ে মাদুরাই এয়ারপোর্ট পৌঁছাতে পৌঁছাতে সকাল হয়ে যাবে তখন আবার শহরের ভেতর মালবাহী গাড়ি আর বাজারের ভীড় বেড়ে যাবে।

গনেশন আর ভেলাম্মাকে বিদায় জানিয়ে মোটরবাইক নিয়ে জলকাদা মাখা রাস্তা কাটিয়ে হাইওয়ের দিকের রাস্তায় বাঁক নিলো।

এখন টানা কিছুক্ষণ গ্রামের রাস্তা চলবে। ধ্রুপদের মনটা বেশ ফুরফুরে। ওর বাইকের পিছনে একটা ক্যানভাস ব্যাগ বাঁধা। তাতে নতুন একটা ছবি। আশাবরী ফিরে যাওয়ার পর এঁকেছে,চেন্নাইতে আশাবরীর অফিসের জন্য।

আশাবরীর সঙ্গে কথা বলার পর কিছু কিছু পার্সপেক্টিভ নিয়ে আবার আলোচনা করতে হবে মনে হচ্ছে ধ্রুপদের। মনের অনেক অনুভূতি দীর্ঘকাল ধরে আলো না পেয়ে পেয়ে স্তিমিত হয়ে পড়েছে।আশাবরীর মতে সেগুলোকে বাইরে আনা দরকার নয়তো ধ্রুপদের শিল্পের মধ্যেও সেসব অনুভূতি ধরা পড়বে না।

বাইকটা এবার মাটির রাস্তা ছাড়িয়ে ভালো রাস্তায় উঠতেই ধ্রুপদ বাইকের গতি বাড়ালো। রাস্তার কিছু কিছু অংশ বেশ ভিজে রয়েছে। পাশ দিয়ে দুটো মালবাহী ট্রাক হেডলাইট জ্বালিয়ে হর্ন বাজাতে বাজাতে পেরিয়ে গেলো। সূর্য ওঠার আগের আভা আকাশের গায়ে।

ধ্রুপদের সামনে একটা ট্রাক রাস্তার অনেকটা জুড়ে চলেছে।পেছন থেকে বার তিনেক হর্ণ দেওয়াতেও কিছুতেই রাস্তা ছাড়ছে না। ধ্রুপদ গতি বাড়িয়ে এবার ট্রাকের আরও ধারে চলে এসেছে হর্ণ বাজাতে বাজাতে। সামনে একটা সরু সাঁকো আসছে, ধ্রুপদ তার আগেই ট্রাকটাকে ওভারটেক করতে চায়। আরো কয়েকবার জোরে জোরে হর্ন আর বাইকের আলো ওঠানামা করলো। এইবার বোধহয় হুঁশ হয়েছে। অল্প একটু জায়গা দিলো ট্রাকটা। ধ্রুপদ এক্সেলারেটর বাড়িয়ে পাশ কাটাতে গিয়েই বুঝতে পারলো উল্টো দিকে আরেকটা বড় ট্রাক ওর দিকে ধেয়ে আসছে প্রচন্ড গতিতে! দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য অবস্থায় ধ্রুপদ পাশ কাটাবার চেষ্টা করতেই আগের ট্রাকটা ওকে ডানদিকে চেপে দিলো। উল্টো দিকের ট্রাকটাও সোজাই এগিয়ে এলো। ট্রাকের ধাক্কায় ওর দেহটা ছিটকে গিয়ে পড়ল সাঁকোর নীচের পাথুরে উপত্যকায়। মোটরবাইকটা একটা ঢালে পাথরের খাঁজে আটকে গেলো। দ্বিতীয় ট্রাকটা অনেক দূরে বেরিয়ে গেছে ততক্ষনে। প্রথম ট্রাকটা একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালো। দুটো লোক নেমে এসে সাঁকোর ধারে দাঁড়িয়ে নীচে টর্চ মেরে দেখলো। অনেকটা নীচে পাথরের উপর ধ্রুপদের অচৈতন্য দেহটা পড়ে আছে। রক্ত গড়াচ্ছে। লোক দুটো বাইকটাকে ঠেলে নিচে গড়িয়ে দিলো। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলো তারপর আবার ট্রাক স্টার্ট করে বেরিয়ে গেলো। দূরে আকাশের রঙ ফিকে নীল থেকে আরো লাল হচ্ছে।

‘Barso ki ratjagon ki
thakan kha gayi mujhey
Sooraj Nikal Raha tha
Ki nind aa gayi mujhey

ঘড়িতে সন্ধে সাতটা।ধ্রুপদ এখনো পৌঁছায়নি।আশাবরী বারবার বাইরে দেখছে জানালা দিয়ে।ধ্রুপদের মোবাইলও বন্ধ।
তবে কি আসবেনা!?
কিন্তু আশাবরীর তো কাল রাতেও ধ্রুপদের সাথে কথা হয়েছে।রাত আটটা বাজলো,আশাবরী বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে,আকাশে মেঘ ঘন হয়ে এসেছে।আশাবরী আকাশের দিকে তাকিয়েছিলো, মাথায় ভাবনাচিন্তারা সব এলোমেলো ঘুরপাক খাচ্ছে। আশাবরীর কান্না পাচ্ছে,গলার কাছে কিছু একটা দলা পাকিয়ে উঠছে। এমন সময় বৃষ্টি নেমে গেলো,মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। আশাবরীর গায়েও ছাঁট লাগছে জলের। ভিজে হাওয়া একটা মুখে এসে লাগছে।লাগুক,আজ আশাবরী ভিজবে।
বৃষ্টির বেগ বেড়েই চললো।

(সমাপ্ত)

উদ্ধৃতি:Qaiser Ul Jafri
চিত্র: Instagram.com

7 thoughts on “অন্তিম পর্ব : ভেজা হাওয়া”

  1. প্রথম থেকেই খুব টানটান লেখা,তবে শেষটা এমন নৈরাশ্য দিয়ে হবে আশাকরিনি।

    Like

    1. অসংখ্য ধন্যবাদ মতামত জানানোর জন্য।

      Like

  2. Galpo ses howar sange sange jeno etogulo choritro ke egiye cholar sob goti i hathat nistabdho hoye gelo.. Khub sundor ekta golpo porlam amra.. I always prefer happy ending, tobuo ei ses hoye jawar nistabdhota take govir vabe anubob korlam..

    Like

    1. আমাদের উৎসাহিত করার জন্য ধন্যবাদ। আশাকরি ভবিষ্যতে আরও ভালো লেখা পরিবেশন করতে পারবো।

      Like

    1. আমাদের উৎসাহিত করার জন্য ধন্যবাদ। আশাকরি ভবিষ্যতে আরও ভালো লেখা পরিবেশন করতে পারবো।

      Like

Comments are closed.