দক্ষিণ দুয়ার, ধারাবাহিক কাহিনী

পর্ব ১৮: দাগ

এর আগে: ধ্রুপদ আর গার্সিয়া দিল্লীতে ফেরে। ওদের সেরে ওঠা উপলক্ষে দিল্লির বন্ধু মৈত্রী নিজের বাড়িতে পার্টি রাখে। সেখানে ধ্রুপদের সাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়।
New South Wales

ডাক্তারের কথাগুলো আশাবরীর কানে ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে।যেনো স্বপ্ন! কোন সুদূর থেকে চৌরাসিয়ার বৃন্দাবনী সারং ভেসে আসছে।
আশাবরী মা হবে!!
আনন্দ আর উত্তেজনার আতিশয্যে ডাক্তারের পরের দিকের কথাগুলো মন দিয়ে শোনার ধৈর্য্য রইলোনা আশাবরীর।রাজীব সমস্ত টেস্ট রিপোর্ট গুলো যত্ন করে গুছিয়ে নিলো,মনোযোগ দিয়ে সব শুনে বুঝে নিলো,আশাবরীর ইন্ডিয়া যাবার কথাটাও আলোচনা করলো।কিন্তু প্রথম তিন মাস ট্রাভেল করতে দেয়া ঠিক হবেনা ডাক্তার বলে দিলেন।আশাবরী সেসব ভালো করে শুনতেই পেলোনা।ওকে ঘিরে রেখেছে অন্যরকম ভালোবাসা,ভাললাগা।নিজের মনের মধ্যে প্রবল পরিবর্তন টের পাচ্ছে।যেনো নিজের বেঁচে থাকার উপলব্ধি আরো প্রগাঢ় হচ্ছে।এরকম অনুভূতি কি সবার হয়?নিজের মধ্যে আরেকটা জীবন,তার প্রতি প্রবল মমতা।অনাগত একটা প্রাণের জন্যে গভীর ভালোবাসা।এই কি অপত্য প্রেম?!আশ্চর্য্য শিহরণ লাগে আশাবরীর।সন্তানের স্পন্দন থেকেই মেয়েদের মধ্যে যে বিরাট এক পরিবর্তন আসতে শুরু করে আশাবরী সেসব বহুবার শুনেছে,পড়েছে,জেনেছে।আশাবরীর নিজেকে একবার আয়নায় দেখতে ইচ্ছে করছে।
ডাক্তারের কাছে বিদায় নিয়ে যখন বেরোলো তখন বেলা পড়ে আসছে।কিন্তু আশাবরীর এখুনি ঘরে ফিরে যেতে মন চাইছেনা।
রাজীব ওর মাকে ফোনে জানালো।তিনি দুজনকেই অভিনন্দন জানালেন।অত্যন্ত খুশি সুখবর পেয়ে। রাজীবকে বলে দিলেন আশাবরীর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে।আশাবরীকেও বললেন এখন হুটহাট যেন কোথাও না যায়।আশাবরী বিশেষ কথা বলেনি,হুঁ-হা করেছে শুধু।রাজীবকে মোবাইলটা ধরিয়ে দিলো তাড়াতাড়ি।ওর মধ্যে যে অনুভূতিগুলো দানা বাঁধছে সেগুলো ঘিরে থাক শুধু।
‘চল্,আজ দুজন মিলে সেলিব্রেট করি।ঘুরে বেড়াই সিডনিতে।অপেরা হাউস এর সামনে আইসক্রিম খাবো,রাতে কোথাও ডিনার করে ফিরবো।প্লিজ গাড়ি নিসনা।আজ ট্রেনে যাবো।’ আশাবরী আবদারের সুরে বললো।
রাজীবের যদিও তেমন সায় ছিলোনা,এই অবস্থায় পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত;তার ওপর মায়ের কড়া নির্দেশ।ঠিক করে উঠতে পারছিলোনা কি করবে।কিন্তু তারপর আশাবরীর উচ্ছাস আর জেদের কাছে বরাবরের মতো হার মানলো।গাড়িটা পার্কিং লটে রেখে স্টেশনে এলো।এই সময়টায় বেশ ভিড় স্টেশনে,সবার বাড়ি ফেরার সময়।ওরা সিডনি যাবে।খুব বেশি অসুবিধা হলোনা।আশাবরী রাজীবের হাত চেপে ধরে আছে।এক মুহূর্তের জন্যেও ছাড়ছেনা।আজকের মতো এমন নিবিড় করে আশাবরী আর কখনো রাজীবকে আঁকড়ে ধরেছিলো?এসব কিছুই মনে পড়েনা আশাবরীর।শুধু এই মুহূর্তগুলো সাজিয়ে চলেছে মনে মনে,সন্তর্পণে।

অপেরা হাউসের আশেপাশে বেশ ভিড়।ট্যুরিস্টদের ছবি তোলার দৃশ্য।খুবই স্বাভাবিক দৃশ্য।সূর্যাস্তের আলো পড়েছে অপেরা হাউসের গায়ে,যেন সারাদিনের শেষে একটু গা এলিয়ে নিচ্ছে।ওরা বসলো,অপেরা হাউস সংলগ্ন একটা রোয়াকে,আইসক্রিম খেলো।রাজীবও বেশ কিছুক্ষণ মোবাইলে ছবি তুললো আশাবরীর।তারপর দুজনে বেনেলং পয়েন্টের দিকে পা বাড়ালো।

১৭৯০এর দশকে ব্রিটিশরা এই জোয়ার দ্বীপে আসতে শুরু করে।কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ না হলে চলেনা,এদিকে ভাষা ও সংস্কৃতির বিভেদ প্রবল।শেষে উপায়ান্তর না দেখে গভর্নর ফিলিপ,রাজার নির্দেশে এই অঞ্চলের ভাষা-সংস্কৃতি রপ্ত করার এক কৌশল প্রয়োগ করলেন,বন্দি করে নিয়ে এলেন জনাকয়েক এ্যবরিজিনালকে।কিন্তু বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের অনেকেরই জীবনকাল দীর্ঘ হলোনা।এদের মধ্যে দীর্ঘকায় ও বলবান যুবা বেনেলং,আরেকজন বন্দির সাথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।তবে মুক্তির পরেও তিনি গভর্নরের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখেন,শেখেন ইংরেজী। স্থানীয় অধিবাসী ও উপনিবেশকারী ব্রিটিশদের মধ্যে সেতুবন্ধন স্থাপন করতে সফল হন।নিউ সাউথ ওয়েলসের গভর্নর ফিলিপ, বেনেলংএর নামে এক কুটির তৈরী করেন,সেটি এখন অপেরা হাউসের অংশ।

এই ইতিহাস বেন টেলরের দৌলতে আশাবরী কিছুদিন আগেই জানতে পেরেছে। এবরিজিনালদের ইতিহাসের এসব অধ্যায় বেন মাঝেমধ্যেই আশাবরীর সাথে আলোচনা করে। কখনো নিজের কিছু লেখা ইমেলে পাঠায়।সেসব থেকেও আশাবরী অনেক চমৎকার সব তথ্য পায়।জানার ইচ্ছেটা আরো বেড়ে যায়।

অপেরা হাউসের ফার্স্ট প্যাভিলিয়ন হলো বেনেলং রেস্টুরেন্ট।রাজীব কি করে যেনো ওদের জন্যে একটা টেবিল বুক করে ফেলেছে।সিঁড়ি দিয়ে উঠে একটু ভেতরের দিকে বসলো দুজনে।ফ্লোর থেকে সিলিং পর্যন্ত টানা জানালা,দুজনেই স্তম্ভিত হলো।
আশাবরীর খুব পছন্দ হলো ইন্টেরিয়র,ক্যাথেড্রাল এর মতো করে সাজানো,মায়াবী ও উষ্ণ অন্দরসজ্জা।চারিদিকে ক্যারামেল রঙের ছোঁয়া।আর টেবিলে বসেই আলো ঝলমলে হারবার ব্রীজের ‘মিলিয়ন ডলার ভিউ’।যেন আলোর চাদর বুনেছে কেউ।একটি দুটি ক্রুজশিপ,ফেরি(ferry) ভাসছে জলে।রাত নামছে আলোর ঢেউয়ে ভেসে। মেন্যুতে অস্ট্রেলীয় নিজস্বতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুরোমাত্রায়।ডাক্ আর ল্যামিংটন দুটোই স্বাদে অতুলনীয়।স্বপ্নের মতো কেটে গেলো সময়।

ডিনার সেরে ফিরতে বেশ দেরি হয়ে গেলো।রকডেল স্টেশনে ওরা যখন নামলো,তখন রাত প্রায় সাড়ে দশটা।সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে এই এলাকায় এটাই অনেক রাত।কারণ সকাল হলেই এদের ছুটতে হবে।আশাবরী গুনগুন করে Beatles গাইছে-

Do u want to know a secret,
Do u promise not, to tell…whoo..oo..
Closer,let me whisper in ur ear
Say the words you long to hear,
I’m in love with you’…..oooo

আলেক্সান্ড্রা প্যারেডে ঢোকার দিকের রাস্তায় একটু আলো কম,গাছপালা ঘিরে থাকে বলে জায়গাটা বেশ ছায়া ছায়া।ওরা দুজনেই হাঁটছিলো, হঠাৎ পেছনে যেন আরো পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেলো।যদিও এত রাতে আর কারো সেভাবে এদিকে দেখা পাওয়া ভার, কিন্তু ওরা নিজেদের আনন্দে এতই মশগুল ছিল,ব্যাপারটা পাত্তা দিলোনা।কিছুটা এগোনোর পর ডান দিকের স্ট্রিটলাইটের তলায় একজন লম্বা কৃষ্ণকায় লোককে সিগারেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো,লেবানিজ বা আফ্রো হবে।রাজীব আর আশাবরী হাত ধরাধরি করেই এগোচ্ছিলো,হঠাৎ পেছন থেকে আরো দুটো লোক এসে ওদের দুপাশে দাঁড়ালো। সিগারেট হাতে লোকটা ওদেরকে ইশারায় ওয়ালেট আর ঘড়ি খুলে দিতে বললো। রাজীব কিছু বলতে যাচ্ছিলো,লোকটা আচমকা রাজীবের একটা হাত মুচড়ে ধরলো,রাজীব কঁকিয়ে উঠলো। অন্য হাত দিয়ে ওয়ালেটটা বের করে দিলো,আর রাজীবের হাতের ঘড়িটা লোকটা নিজেই খুলে নিলো। আশাবরীর গলায় একটা চেন ছিলো,এবার পেছন থেকে একজন সেটাতে হাত দিলো।আশাবরী চেঁচিয়ে ওঠার আগেই একটা লোক পেছন থেকে আশাবরীর মুখ চেপে ধরেছে,আর অন্য হাতে চেনটা খোলার চেষ্টা করছে।আশাবরী এলোপাথাড়ি পা চালালো,তাতেই খেপে গিয়ে তৃতীয় লোকটি এগিয়ে এসে ওর পাগুলোকে এমনভাবে চেপে ধরলো যে আশাবরীর স্কার্ট এর কিছুটা অংশ ওপরে উঠে গেলো। লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে আশাবরীর হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেলো।যে লোকটা আশাবরীর মুখ চেপে ধরেছিলো সে গলার চেন খুলে নেবার সময় ওর বুকে হাত দিলো,যেন অজান্তেই।আশাবরী প্রচন্ড ছটফট করছিলো।তৃতীয় লোকটা আশাবরীর স্কার্ট এর তলায় হাত বোলাতে লাগলো।রুক্ষ,ভারী হাতের পাঞ্জা।আশাবরীর শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা চোরাস্রোত নেমে যাচ্ছে। এসব কি সত্যি ঘটছে?!এদিকে রাজীবকে ওই সিগারেট হাতে বিশালদেহী লোকটা মাটিতে ফেলে দিলো।নিজেদের মধ্যে ইশারায় কিছু বললো,তারপর রাজীবকে সজোরে একটা লাথি কষালো কৃষ্ণকায় লোকটি।রাজীব প্রচন্ড ব্যথায় মনেহয় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।এবারে আশাবরীর পালা,পেছনদিকের লোকটা বাকিদের তুলনায় রোগা,শ্বেতকায় আঙ্গুলগুলো লম্বা,শরীর থেকে গাঁজা বা ঐজাতীয় কোনো কিছুর তীব্র গন্ধ আসছে। প্রথম লোকটি এগিয়ে এসে আশাবরীর চেন টেনে ছিঁড়ে নিলো।মোটা নখের আঘাতে আশাবরীর গলার কাছের চামড়া কিছুটা ছড়ে গেলো।আর রোগা আঙ্গুলগুলো আশাবরীর বুক চেপে ধরলো।এবার আশাবরীর চোখ দিয়ে জল আসছিলো।রুক্ষ হাতটা ওর টাইটসটা টেনে নামিয়ে দিচ্ছে।এসব কি হচ্ছে!রাজীব!রাজীব!!আশাবরী দুবার ডাকলো,কিন্তু গুমড়ানো কিছু শব্দ ছাড়া আর কিছুই বেরোলোনা। প্রথম লোকটা আশাবরীর দিকে তাকিয়ে ক্রুর হাসছে।রাজীব সামান্য নড়ে উঠলো কি?!এদিকে দ্বিতীয় লোকটি আশাবরীর স্কার্টের নিচে হাত ঘষতে শুরু করেছে।আশাবরীর বমি পাচ্ছে।লোকটা আশাবরীর প্যান্টি খুলে নিতেই ভীষণ অসহায় আশাবরী এবার শেষ চেষ্টা করলো মরিয়া হয়ে, রোগা লোকটার মাথায় নিজের মাথাটা ঠুকে দিলো,আচমকা আঘাতে লোকটার হাতের বাঁধন আলগা হলো,এবার কনুই দিয়ে দ্বিতীয় লোকটির মাথায় আরেকটা আঘাত করলো।কিন্তু এবারে সেই পেশীবহুল লোকটা এগিয়ে এসে ওকে জাপটে ধরতেই শেষবারের মতো এক ঝটকায় সরে যেতে চাইলো আশাবরী। মাথাটা আচমকা ধাক্কা খেলো ল্যাম্পপোস্টে।এরপরে আশাবরী শুধু বুঝতে পারলো ওকে কেউ লাথি মেরে ফেলে দিলো,আর ও রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়লো।

ভোরের দিকে প্রচন্ড মাথা আর শরীরে ব্যথা নিয়ে জ্ঞান ফিরলো আশাবরীর।চারিদিকে নিঃস্তব্ধতা,রংহীন!স্বপ্ন দেখছে?!সাদা পর্দার ফাঁক দিয়ে সামান্য আলো আসছে ঘরটায়।কেমন যেন ঘোর লাগা অনুভূতি।ঠিক কোথায় আছে বুঝতে পারছেনা আশাবরী।
একটু পরে রাজীব ঢুকলো,গালে ব্যাণ্ডেজ
-,”আশি, কেমন লাগছে এখন???”
এবারে রাতের ভয়ংকর ঘটনাটা মনে পড়লো আশাবরীর।রাজীবকে জিজ্ঞেস করলো,’তুই ঠিক আছিস?আর কোথাও লাগেনি তো?”
রাজীব আশাবরীকে আশ্বাস দিলো,বললো ” পাঁজরের নিচে একটা ছোট চোট আছে,ওষুধেই সেরে যাবে।আমি এক্স রে করিয়ে নিয়েছি।ফ্র্যাকচার নেই।”
আশাবরীর এবার নিজের মাথায় আর হাঁটুতে ব্যাণ্ডেজ লক্ষ্য করলো।গলাতেও একটা ছোট ব্যাণ্ডেজ করা।
“তোর কি কোনো কষ্ট হচ্ছে?জ্ঞান ছিলোনা তাই বাইরে থেকে যে চোটগুলো দেখা গেছে সেগুলোই ব্যাণ্ডেজ করে দিয়েছে।আর কোথাও লেগেছে তোর?” রাজীব চিন্তিত।আশাবরী ওই কথার উত্তর দিলোনা,রাজীবকে প্রশ্ন করলো
‘তুই পুলিশ কে ইনফর্ম করেছিস?’
“পুলিশ কি করবে?ঐখানটা সিসিটিভি ছিলোনা,পুলিশ ওদের ধরবে কি করে।আর আলো আঁধারিতে আমরাও তো ভালো করে দেখিনি ওদের চেহারা।বাদ দে।” রাজীবের নিরুত্তাপ উত্তর।
একথা শুনে আশাবরী আকাশ থেকে পড়লো,কি বলছে এসব রাজীব!!এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেলো,সেটা বাদ দিতে বলছে??রাজীব জ্ঞান হারানোর পর আশাবরীর সাথে কি কি হয়েছে আর কি কি হতে পারতো সেসব কথা রাজীবকে জানালো আশাবরী।বলতে বলতে ওই নোংরা হাতগুলো মনে পড়ে যাচ্ছিলো।ওর শরীরে যেন এখনো সেসব নোংরা স্পর্শ লেগে আছে।
রাজীব সব শুনে বললো,পুলিশ এসেছিলো, সব শুনে মব রিপোর্ট লিখে নিয়েছে।ওদের কোনো ক্লু পেলে আমাদের জানানো হবে।কিন্তু আশাবরীর মনে হলো রাজীব ওকে নিরস্ত করার জন্যই এই কথাগুলো বলছে।ওর বয়ান তো রেকর্ডই হলোনা।
আশাবরীর রাজীবের মুখের দিকে আর তাকাতে ইচ্ছে করছেনা।নিজের সাথে এমন ভয়ংকর একটা ঘটনা ঘটার পর কেউ এরকম ভাবে চুপ করে বসে থাকতে পারে?
আশাবরী ধীরে ধীরে উঠে বসার চেষ্টা করলো।শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই।খুব কষ্ট হচ্ছে।তবু দেয়ালে ভর দিয়ে দিয়ে বাথরুমে যাবার চেষ্টা করলো । বাথরুমে পৌঁছনোর আগেই হঠাৎ তলপেটে প্রচন্ড চাপ মনে হলো,তীব্র অথচ ভোঁতা একটা যন্ত্রনা।ঊরু বেয়ে উষ্ণ কিছু নেমে আসছে,বাথরুমের আলোয় আশাবরী দেখলো রক্তে ভিজে যাচ্ছে পা।গোঙানির মতো আওয়াজ বের করে ডাকলো রাজীবকে,কাঁপা কাঁপা হাতে ইশারায় দেখালো মেঝেয় পড়া রক্ত। রাজীব কিছু বোঝার আগেই আশাবরী দ্বিতীয়বার জ্ঞান হারালো।

(ক্রমশঃ)

চিত্র ১: Instagram.com
চিত্র ২: Noma Bar

1 thought on “পর্ব ১৮: দাগ”

Comments are closed.