দক্ষিণ দুয়ার, ধারাবাহিক কাহিনী

পর্ব ১৭: Quizas, Quizas

এর আগে: অস্ট্রেলিয়ার দৈনন্দিন জীবনে নিজেকে থিতু করার মাঝেই ধ্রুপদের অপহরণের খবর পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে আশাবরী। ওদিকে লাইব্রেরীতে বেন টেলরের সঙ্গে আলাপ হয়।
New Delhi, India

উড়িষ‍্যায় গার্সিয়া আর ধ্রুপদকে রেসকিউ করার পর ভুবনেশ্বরের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই সেখান থেকে সরকারী তত্বাবধানে দিল্লির এক বড় হাসপাতালে ওদের স্থানান্তরও করা হয়েছে। বুলেটের রিকোশেতে কোনো ছোট পাথরের টুকরো এসে ধ্রুপদের মাথায় লাগে।গার্সিয়ার ও ডান হাত জখম হয়। সরকারী মহলে আর গার্সিয়ার এম্বাসিতে এই ঘটনা নিয়ে সাড়া পড়ে গেছে।নিউজ মিডিয়াও স্বাভাবিকভাবেই এই ব‍্যাপারটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কিন্তু গার্সিয়া ওর এম্বাসিতে অনুরোধ জানিয়েছে যে মিডিয়ার কাছ থেকে ওদেরকে রেহাই দিলেই ভালো হয়।

এই উদ্ধারকার্য সফলভাবে চালনা করার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সুনাম আবার চারিদিকে ছড়িয়ে গেছে। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর সুপ্রিমো দিল্লিতে ওদের খোঁজখবরও নিচ্ছেন।তবে মূল সমস্যা হচ্ছে ওদের প্রোজেক্টের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গার্সিয়া় যে সংস্থাগুলোর আর্থিক সহায়তা যোগাড় করে কাজটা করতে এসেছিলো তারা এই ঘটনার পর ভবিষ‍্যতে আর কোনো রকম ফান্ডিং করবে কিনা সেই নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে গার্সিয়ার। ওর এই প্রোজেক্ট নিয়ে অনেক রকমের পরিকল্পনা ছিলো। এখন দেশে ফিরে গিয়ে আবার নতুন করে ফিনান্সার এর খোঁজ শুরু করতে হবে। উড়িষ‍্যার ওই অঞ্চলে কাজ করা বোধহয় আর হয়ে উঠবে না। ভবিষ্যতে যদি আবার কাজটা শুরুও হয় সেক্ষেত্রে তাদের অন‍্য কোনো জায়গা বাছতে হবে।

দিল্লীর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে থাকতে, পুরোনো স্মৃতি ভেসে আসছিলো ধ্রুপদের মনে। বেশ কয়েকবছর আগে কথা। ইংল‍্যান্ডের কার্ডিফ সিটি হাসপাতালে অচৈতন্য অবস্থা থেকে যখন জ্ঞান ফিরে পেয়েছিলো, তখন চোখ খুলে যে মুখটা প্রথম দেখেছিলো সেটা ছিলো সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত!
মা, উদগ্রীব দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো ওর দিকে। ক্ষণিকের জন্য ধ্রুপদের সমস্ত প্রতিরোধের বাঁধ ভেঙে গিয়ে একটা নির্মল হাওয়া যেন প্রাণে এসে লেগেছিলো,কিন্তু পরমুহূর্তেই এতদিনের জমে থাকা রাগ,অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো।
মা ওর দিকে তাকিয়ে হেসে বলেছিলেন
-“আমি জানি তুমি আমাকে এখানে দেখতে পাবে আশা করোনি, কিন্তু তোমার এই অবস্থার খবর পেয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না।”
ধ্রুপদ মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে নিক হেফনারকে দেখতে পায়। উদগ্রীবভাবে নিকের হাত চেপে ধরে ধ্রুপদ বিড়বিড় করে জিজ্ঞেস করছিলো
-“স্কারলেট!? আমার স্কারলেট ঠিক আছে!?”
মাঝে মাঝেই ধ্রুপদ ছটফট করছিলো,অধৈর্য্য হয়ে ঘোরের মধ্যেই অস্ফুট চিৎকার করে উঠেছিলো
-“আনসার মি নিক, প্লিজ আনসার মি..
ইজ শী অলরাইট!?”
নিক খুব শান্ত ভাবে বলেছিলো
-“উই ডোন্ট নো ইয়েট। তবে তুমি আপাতত সেরে ওঠো, ঈশ্বরের কাছে সেই প্রার্থনা করি।” স্কারলেটকে পাওয়া গেছিলো কিন্তু যে অবস্থায় পুলিশ তাকে পায় তার স্মৃতি ধ্রুপদকে এখনও ব‍্যথা দেয়, নিজের ওপর একটা তীব্র বিরক্তিও আসে।

দিল্লী আসার সপ্তাহখানেক এর মধ্যেই ধ্রুপদের চোট অনেকটাই সেরে উঠেছে। এবার ওকে রিলিজও করে দেবে। ইতিমধ্যে করাইকুড়ি থেকে গণেশাপ্পা দিল্লিতে এসে তিন-চারদিন থেকে ধ্রুপদের দেখভাল করে গেছে। ভেলাম্মা ধ্রুপদের পছন্দের খাবারগুলো পাঠিয়েছিলো সঙ্গে। এছাড়াও ওদের আরেক শিল্পীবন্ধু মৈত্রী আরোরা আর তার স্বামী পিয়ূষ এবং অন্যান্য শিল্পী বন্ধু-বান্ধবরাও এসে খোঁজ নিয়েছে। গার্সিয়াও এখন পুরোপুরি ফিট। ওকে এবার ফিরে যেতে হবে। ওর ফ্লাইটও দিল্লি থেকে।গার্সিয়াকে বিদায় জানিয়ে ধ্রুপদও এবার করাইকুড়ি ফিরবে।

ইনবক্সে অনেক মেল জমেছে, আশাবরীর দুটো মেল,দুটোই দুশ্চিন্তা আর আশঙ্কার। অপ্রত্যাশিতভাবে মা’র কাছ থেকেও একটা ইমেল এসেছে। আশাবরীকে একটা সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলো ভালো আছে জানিয়ে। বাকি কথা করাইকুড়ি ফিরলে বলবে লিখলো। মা’র ইমেলের এই মুহূর্তে কোনো উত্তর দেওয়ার ইচ্ছে করলো না।

আজ গার্সিয়ার ফিরে যাওয়া আর ওদের সেরে ওঠা উপলক্ষে মৈত্রী আরোরার কনৌট প্লেসের বাড়িতে সান্ধ্যকালীন আড্ডা বসেছে। মৈত্রীর স্বামী পিয়ূষের চমৎকার রান্নার হাত। ডিনারে লাহোরী চরঘা বিরিয়ানি আর ল‍্যাম্ব বোটি কাবাব বানাচ্ছে পিয়ূষ। আরো কয়েকজন বন্ধু বান্ধব এসেছে। আর এসেছে সাই। মৈত্রীর লিভিং রুমের একদিকে একটা লোভনীয় পিয়ানো রাখা আছে।রোজউড কালার, স্যাটিন পলিশ,এলবার্ট ওয়েবার।তাতে বসে সাই গান গাইছিলো।

সাই কেলকর, মারাঠী মেয়ে,এখন নিউ ইয়র্কে থাকে। ওর বাবা বেশকিছু বহুজাতিক সংস্থার ফিনান্সিয়াল এডভাইসার। দিল্লিতেও পেল্লাই বাড়ি আছে।ধ্রুপদের সঙ্গে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার দেখা হলো। আগেরবার সাই-এর প্রথম মিউজিক রেকর্ডসের লঞ্চ উপলক্ষে ওর দিল্লির বাড়ির পার্টিতে আলাপ হয়। মৈত্রীই জোর করে ধ্রুপদকে টেনে নিয়ে গেছিলো,ভালো গান শোনাবার নাম করে। সাই উঠতি প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পী। ওয়েস্টার্ন মিউজিক শিখেছে আমেরিকার মিউজিক স্কুলে। কিন্তু ওর গানে একটু দেখনদারী ভাব বেশী বলে ধ্রুপদের ধারণা।তবে প্রথমদিন থেকেই ধ্রুপদের ওপর সাই এর নজর।ধ্রুপদ সেটা বুঝতে পেরেও দিব্যি এড়িয়ে গেছে।

জন লেনন,বিলী জোয়েল,বিটলসের পর সাই শুরু করলো‌ “historia de un amor”
গার্সিয়ার মেজাজটা এখন অনেক শান্ত, গিটারে সঙ্গত করছিলো সাইকে। কিচেন থেকে কাবাবের গন্ধ ভেসে আসছে,কয়েক রাউন্ড স্কচ, ওয়াইনের পর অতিথিদেরও বেশ একটা ফুরফুরে মেজাজ।

গানটা শুনতে শুনতে ধ্রুপদের মনে পড়লো,কলকাতায় হসপিটাল-ক‍্যাফেতে বসে আশাবরী যখন নিজের দিদির জীবনের কথা শোনাতে শোনাতে প্রায় ভেঙ্গে পড়ছিলো,ধ্রুপদের মন তখন চাইছিলো ওকে বুকের কাছে টেনে নিতে,আর সেইসময় আশাবরীর ফোনে এই সুরটা বারবার বেজে উঠছিলো।

গাইতে গাইতে সাই বেশিরভাগ সময়েই ধ্রুপদের দিকে তাকাচ্ছে। এই দৃষ্টিটা ধ্রুপদের চেনা, এতে বিভোর ভাব নেই, প‍্যাশন বা রোমান্টিকতা নেই, আশাবরীর হাসির মতন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবও না, বরং তীব্র কামনা, গুণের স্বীকৃতি পাওয়ার অভিলাষা আর সৌন্দর্যের অহংকারে পূর্ণ এক মাদকতাময় চাহনি।এই আকর্ষণে সাড়া দিলে তারপরের ব‍্যাপারগুলো কি হতে পারে সেটাও ধ্রুপদের জানা। গানের ছন্দে মাথা নাড়ার অছিলায় সাইয়ের দৃষ্টি এড়িয়ে সে অন‍্যদিকে তাকালো।
সাইয়ের গান শেষ হতেই হাততালি আর প‍্রশংসার মাঝে পিয়ূষ এপ্রন খুলতে খুলতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো।

-” গরীবের দস্তরখোয়ান প্রস্তুত বন্ধুগণ, হেল্প ইওরসেলফ”! বলেই সোফায় মৈত্রীর কোলের উপর গা এলিয়ে দিলো।
গানের মজলিশ শেষ হলে, আড্ডাটা একটু ঘর জুড়ে ছড়িয়ে গেলো। কেউ খাচ্ছে, কেউ পান করেই চলেছে,কেউ বকবক করছে।

কয়েকজন গার্সিয়া কে ঘিরে ধরে উড়িষ্যার অরণ্যের অপহরণ আর উদ্ধারের ঘটনা শুনছে আর চমকে উঠছে।সবার হাতে হাতে ‘মনালা স্টাফ’ বা হিমাচলী চরসের জয়েন্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে। ম ম করছে চারদিক। মৈত্রী হোস্ট হিসেবে অনবদ্য,সবাইকে হাসি মুখে সঙ্গ দিচ্ছিলো। এদিকে সাই বেশ নাছোড়বান্দা।এরইমধ্যে তিনবার ধ্রুপদের গা ঘেঁষে যাওয়ার সময় আলতো তর্জনী ওর হাতের উপর বুলিয়ে গেছে। তবে এই মুহূর্তে দুষ্টুমিটা ধ্রুপদের মন্দ লাগলোনা।

ধ্রুপদের ব‍্যবহার, বুদ্ধিমত্তা,তার সঙ্গে গভীর চোখের দৃষ্টিতে আকৃষ্ট হয়ে অনেক নারীই এর আগে ওর জীবনে এসেছে।ধ্রুপদও সবাইকে ফিরিয়ে দেয়নি। আবার হৃদয়েও স্থান দেয়নি।
শুধু স্কারলেটের বেলাতেই কেমন জানি সমস্ত বুদ্ধি বিবেচনা হারিয়ে ফেলেছিলো। নিজের সমস্ত অস্তিত্ব পুরোপুরি সমর্পণ করেছিলো মেয়েটাকে। পরে তার মোক্ষম মাসুল দিতে হয় নিজের জীবন বিপন্ন করে। নিক হেফনার এবং মা, সেসময় পাশে না থাকলে হয়তো ধ্রুপদের আর সুস্থ জীবনে ফেরাই হতোনা।

মৈত্রীর বাড়ির উপরতলার বিএনবি-তে গার্সিয়া উঠেছে। আসর ভাঙার পর গার্সিয়াকে শুভরাত্রি জানিয়ে ধ্রুপদ নিজের বাসস্থানের অভিমুখে রওনা হবে ঠিক সেই সময়ই সাই,ওর গাড়ি নিয়ে ধ্রুপদের কাছে এসে দাঁড়ালো।
ধ্রুপদ জানলা দিয়ে ভিতরে তাকাতেই সাই বললো

-“কাম অন, গেট ইন..উইল ড্রপ ইউ।”

নাহ! এড়াবার যো নেই! ভাবলো ধ্রুপদ।

দিল্লীর রাস্তা দিয়ে গাড়ি ছুটছে। স্টিরিওতে মৃদু শব্দে ন‍্যাট কিং কোল এর গান ‘Quizas‘ চলছে। সাই এর মুখের জয়েন্টের ধোঁয়াতে ধ্রুপদেরও ঘোর লাগছে। গাড়ি চালাতে চালাতে সাই জিজ্ঞেস করলো
-“ইউ আপ ফর আ নাইটক‍্যাপ? আই গট সাম গুড সিঙ্গল মল্ট আ‍্যট মাই প্লেস!” ওর ঠোঁটের কোণে একটা মৃদু হাসি।
ধ্রুপদ বুঝতে পারলো কঠিন নাগপাশ!হালকা নেশা আর গানের মধ্যে ডুবে নিজেকে বাঁধনছাড়া মনে হতে লাগলো। সাই গাড়ির গতি বাড়ালো,গন্তব্যে পৌঁছনোর তাগিদ।

তীব্র চুম্বনে মত্ত দুজনে বাড়ির দরজা খুলে উঠতে পারছিলোনা, ধ্রুপদ সাইয়ের কোমর থেকে হাতটা তুলে পিছন দিকে বাড়িয়ে নবটা ঘোরাতেই দুজনে মিলে প্রায় উল্টে পড়লো সাইয়ের ঘরের ফ্লোরে। কোনোরকমে দরজাটা ঠেলে বন্ধ করলো সাই। ঘরটা আবছা অন্ধকার। দুজনের পরস্পরকে বিবস্ত্র করতে বেশি সময় লাগলোনা।

ভিভা লা জুসির গন্ধ সাইয়ের শরীরের আনাচে কানাচে,আবেদনের উচ্চতম শিখরে নিয়ে যাচ্ছে ধ্রুপদকে।সাইএর উচ্চতা বেশি নয়। ধ্রুপদের কোমরে দু’পা আর গলায় দুহাত জড়িয়ে দিতেই, ওর সুডৌল নিতম্ব দু’হাতে জাপটে দেহটাকে কোলে তুলে নিলো ধ্রুপদ। সাই ইশারায় বেডরুম দেখালো।

নরম বিছানায় আছড়ে পড়লো দুজনের দেহ। দূর থেকে বাইরের রাস্তার আলো ঘষা কাঁচের জানালা দিয়ে ভিতরে এসে বিছানার ওপর পড়েছে। আলোছায়ার সেই মায়াবী নেশাতে দেহগুলির পালাবদল শুরু হলো। কখনো ধ্রুপদের ঠোঁট সাইয়ের স্তনের উপর খেলা করে ‌নেমে আসে যোনি উপত্যকায়। তীব্র কামনা আর পরিতোষে সাই উরু দিয়ে চেপে ধরে ধ্রুপদের মাথা। কোমর থেকে উর্ধাঙ্গ ঢেউ খেলে যায় সুখতৃপ্তিতে। কখনও সাই উঠে আসে ধ্রুপদের উপর। মিলনের ছন্দে তরঙ্গায়িত হয় তার নিতম্ব, স্তন।

আলো আঁধারিতে সাই এর শরীরটাকে ধ্রুপদের স্কারলেট বলে ধন্দ হয়,যেন বাতাসে সাঁতার কেটে চলেছে,মাঝে মাঝে খাবি খাচ্ছে ক্লান্তি আর তৃপ্তির দোলাচলে, স্কারলেটের ঠোঁট নেমে আসে ধ্রুপদের গলার কাছে।ধ্রুপদ তার মুখ ঘুরিয়ে দেয় উল্টোদিকে। ওর পিঠে হাত রাখে ধ্রুপদ,কোমরের ভাঁজে।চোখ বন্ধ হয়ে আসে, নেশায় নাকি আবেশে তা বুঝতে পারেনা। আলোর ঝলকানির মতো আশাবরীকে দেখতে পায় চোখের সামনে।স্বপ্নে দেখা আশাবরীর অবয়ব। আবরণহীন! ওকি আবার স্বপ্ন দেখছে? হয়তো, হয়তো না! এ প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। ধ্রুপদ ইন্দ্রিয়়সুখের পর্দা টেনে ধরলো তার ওপর। সমস্ত বলপ্রয়োগ করলো রমণে। সম্ভোগ শীৎকার আর অরণ‍্যের মধ্যে চলতে থাকা বুলেটের শব্দ মিলে মিশে যাচ্ছে চেতনায়-

“If I shall exist eternally

how shall I exist tomorrow”

(ক্রমশঃ)

Quizas: হয়তো
উদ্ধৃতি: Franz Kafka
চিত্র: Santanava Roy

2 thoughts on “পর্ব ১৭: Quizas, Quizas”

Comments are closed.