দক্ষিণ দুয়ার, ধারাবাহিক কাহিনী

পর্ব ১৬: পরবাস

এর আগে: পূর্নিমার রাতে ধ্রুপদ ও গার্সিয়াকে ওদের ক‍্যাম্প থেকে অপহরণ করে বিপ্লবী সৈন্যরা। মধু মারা যায়। চোখ,হাত বাঁধা অবস্থায় প্রায় একদিন যাবৎ জঙ্গলের মধ্যে চলার পর ধ্রুপদ ও গার্সিয়া সীমান্তরক্ষী ও বিপ্লবীদের দ্বৈরথের মধ্যে পড়ে।
Rockdale,New South Wales.

ঘুম ভেঙেই ল্যাপটপ নিয়ে বসেছিলো আশাবরী,উদ্দেশ্য কিছু লেখার কাজ এগিয়ে রাখা। কিন্তু লেখা তো কিছুই হলোনা,উল্টে মেজাজ গেলো বিগড়ে। পাঁচ দিন আগে ধ্রুপদকে একটা মেল পাঠিয়েছিলো,আজও তার উত্তর আসেনি।আশাবরী জানে ধ্রুপদ ইন্টারনেট পরিষেবাবিহীন জায়গায় রয়েছে,কিন্তু তবু কেন যে..
লেখা ছেড়ে উঠে পড়লো,একটু প্রাতঃভ্রমনে যাওয়া যাক। তাতে যদি মেজাজ ঠিক হয়। সময় দেখলো সকাল ছ’টা দশ। রাজীবের ঘুম ভাঙ্গেনি এখনও।

এখন নিউ সাউথ ওয়েল্সে খুব ভালো আবহাওয়া। শীত পড়েনি,তবে আসন্ন। হুডিওলা সোয়েটশার্ট চাপিয়ে বেরিয়ে পড়লো আশাবরী।কানে হেডফোন গুঁজে নিলো। এই সময়টায় বাইরের কোনো আওয়াজ ভালো লাগেনা। ড্রাইভওয়েতে দেখা হয়ে গেলো পাশের ফ্ল্যাটের শ্রীলঙ্কান ভদ্রমহিলার সঙ্গে। ষাটোর্ধ হবেন,ছোট চুল, চেহারায় একটা কঠিন ভাব। আশাবরীকে দেখে হাত নেড়ে হাসলেন। আশাবরীও হাসলো।

এলেক্সান্দরা প্যারেডের পাশ দিয়েই রেল লাইন গিয়েছে। আশাবরী প্রায়ই ব্যালকনি থেকে দেখে।এখান থেকে এয়ারপোর্টও খুবই কাছে,প্লেনগুলি সশব্দে জানান দিয়ে উড়ে যায়। আশাবরী ঘুরে ঘুরে এডওয়ার্ড স্ট্রিট হয়ে রেলওয়ে স্ট্রিটের দিকে চলে গেলো।

রকডেলে বিভিন্ন দেশ আর ভাষাভাষী লোকের বাস। লেবানিজ, চীনে, নেপালি, আর বাঙালিতো আছেই।বিশেষত বাংলাদেশী। আশাবরী ঘুরে ঘুরে জায়গাটা সম্বন্ধে অনেকটাই জানার চেষ্টা করেছে। রকডেল লাইব্রেরিতেও যায় মাঝেসাঝে।
সিন্ধুভৈরবির তানগুলো আশাবরীর ইন্দ্রিয়কে যেন আরও সতেজ, সজাগ করে দিচ্ছিলো। এলার্ম বেজে উঠলো। রাজীবের অফিস যাওয়ার সময় হয়ে গেছে এবার ফিরতে হবে। ফেরার রাস্তাটুকু হেঁটে আসতে ভালোই লাগছিলো। ঠান্ডা হাওয়ায়,গাছের ওপর পড়া রোদ রাস্তায় বেশ ছবির মতো খেলছে। হঠাৎ সব কেমন ফাঁকা মনে হলো আশাবরীর।আজ ধ্রুপদের একটা খোঁজ বার করতেই হবে।
বাড়ি ফিরে গান শুনতে শুনতে ব্রেকফাস্ট তৈরী করলো। রাজীবের আজকে তাড়া ছিলো। টেবিলে রাখা খাবারের দিকে তাকিয়েই বলে উঠলো

-“একি! আমার বেকন কই?”

-“রোজ রোজ বেকন খাওয়া ছাড়,আজ উপ্মা বানিয়েছি খেয়ে দেখ।”

আশাবরী নিজের মাগে কফি ঢালতে ঢালতে উত্তর দিলো। অনিচ্ছা অনিচ্ছা মুখ করে রাজীব দু’চামচ মুখে তুললো, তারপর
-‘উম্, ইয়াম্, লাভ য়‍্যু’ বলেই ব‍্যাগ পত্তর নিয়ে হাওয়া।
রাজীব বেরিয়ে যেতেই অখণ্ড অবসর।
ওর প্লেটের বাকি উপ্মাটা খেতে খেতে নিজেই নিজের রান্নার তারিফ করলো আশাবরী। ইন্সটাগ্রামে ছবি তুলে একটা স্ট্যাটাস আপডেটও দিলো। এরপর রোজকার মতনই
মা -বাবার সাথে একটু ভিডিও চ্যাট,
তারপর সোশ্যাল মিডিয়াতে ঢুঁ মারলো।ফেসবুক দেখতে দেখতে ওর আর রাজীবের ছবিগুলো চোখে পড়লো।বন্ডাই বিচে আশাবরীর বিচ-ওয়্যার পড়া বিভিন্ন পোজ। ফেসবুক মেমরি শেয়ার করতে বলছে। পরপর ছবিগুলো স্ক্রল করতে শুরু করলো আশাবরী।

ক্যানবেরাতে রয়েল অস্ট্রেলিয়ান মিন্টে দুজন মিলে টাকা তৈরী করা,তারপর লং ড্রাইভে ক্যাঙ্গারুর অবাধ বিচরণ দেখতে দেখতে স্কিইং এর জায়গায় পৌঁছে যাওয়া। সেখানে কেবল্ কারে বসে একা আশাবরী। নিচে বরফে বিছানো উপত্যকা, স্কি করছে অনেকেই। রাজীব ভয়ে ওঠেনি, ওই তারগুলোর উপর নাকি ওর ভরসা নেই, হাসি পায় আশাবরীর। এই কদিন আগের কথা,মনে হয় যেন পুরোনো হয়ে গেছে। জীবনটাও সোশ্যাল মিডিয়ার গতে পড়ে যাচ্ছে। রোজ নিত্য নতুন স্টেটাস আপডেট দিতে না পারলে তুমি জনমানসে বিস্মৃত হয়ে যাবে আর মুহূর্তে মুহূর্তে উপচে পড়া পোস্ট আর নিউজ ফিডের ভিড়ে গতকালটাও যেন বহুদিনের ফেলে আসা স্মৃতি বলে মনে হয়।

স্ক্রল করতে করতেই মেসেন্জারে নীহারিকার কল।এতো সকালে!আশাবরী কল রিসিভ করলো,নীহারিকা কেমন আছিস বলার আগেই বললো
-“এখুনি ইন্ডিয়ার নিউজ দ‍্যাখ! আমি তো ভাবতেই পারছি না!”
আশাবরী সর্বভারতীয় একটি পত্রিকার ওয়েবভার্সন খুললো, একটা মাঝারি মাপের খবর। উড়িষ‍্যা সীমান্তে আবার বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা।পুরো খবরটা এক নিঃশ্বাসে শেষ করলো।
ধ্রুপদ বিপদে!!

ইতস্ততঃ হয়ে ফোনে অনেকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলো ধ্রুপদকে,ফোন বন্ধ। সেটাই স্বাভাবিক! বুঝতে পারলো। নীহারিকাকে আবার কল করলো।
নীহারিকা বলছে একদিন আগে ঘটনাটা ঘটেছে,খবরে বলেছে সীমান্তরক্ষাবাহিনীর সার্চ শুরু হয়েছে কিন্তু এর বেশি কিছু ওর জানা নেই। আশাবরীর গলাটা একটু ধরে আসে। বসে বসে ধ্রুপদের পুরোনো ইমেইলগুলো আবার দেখলো,এসব কথার ইঙ্গিত যদি কোথাও পাওয়া যায়। সেরকম কিছু পাওয়া গেলোনা।তবে ওদের টিম পুলিশ প্রহরায় কাজ করছে সে কথা উল্লেখ করেছিলো একবার।এখন পরবর্তী খবরের অপেক্ষা ছাড়া কিছু করার নেই।মন ভারী হয়ে গেলো আশাবরীর। কিন্তু দুশ্চিন্তা করা ছাড়া এমুহূর্তে আর কোনো উপায় নেই।

খানিকক্ষণ ভাবনা চিন্তা করে বেরিয়ে পড়লো লাইব্রেরির উদ্দেশ্যে। হাঁটতে হাঁটতে খিদে পেয়ে গেছিলো তাই একটা দোকান থেকে পেস্ট্রি কিনে খেলো।লাইব্রেরিতে ঢুকতেই আজ সবার চোখ আশাবরীর দিকে,হালকা সবুজ রঙের শাড়ির আভা আশাবরীর চোখে মুখেও লেগে আছে।

এই দুপুরেও বেশ কিছু লোক রয়েছে লাইব্রেরিতে।আশাবরী ক্যাটালগ দেখতে দেখতে আড়চোখে দেখলো,একটা কোঁকড়া চুলের শ্যামলা ছেলে বারবার তাকাচ্ছে।কিন্তু পাত্তা দিলোনা।আপনমনে কিছুক্ষণ বই,ছবি উল্টে পাল্টে রেখে দিলো,তারপর উঠে পড়লো।
মনটা বারবার ধ্রুপদের খবরে আটকে যাচ্ছে।কি হলো,কি হবে!
বেরিয়ে আসবে,এমন সময় খুব মৃদু কণ্ঠে মনে হলো কেউ ডাকছে,এখানে ওকে কে ডাকবে এই ভেবে দরজা পেরিয়ে পা রাখতেই আবার সেই পুরুষ কণ্ঠের শব্দ।
এবার পেছন ঘুরে দেখলো সেই কোঁকড়া চুলের ছেলেটা,আশাবরী সিরিয়াস মুখ করে দাঁড়ালো।ছেলেটা এগিয়ে এসে বললো,
-“হ্যালো,ম্যাডাম।ইউ ফরগট ইওর ওয়ালেট।”
আশাবরী তড়িঘড়ি ব্যাগ চেক করলো।সত্যি তো!পেস্ট্রি কেনার পর হাতেই থেকে গেছিলো ওয়ালেটটা।আর বোধহয় ব্যাগে ঢোকানো হয়নি।জিভ কেটে হাত বাড়ালো আশাবরী।আজ একদম মন লাগছেনা।
ছেলেটি ওর জিভ কাটা দেখেই বোধহয় অল্প হেসে উঠলো।আশাবরী ছেলেটিকে ধন্যবাদ জানালো।ছেলেটি তবু দাঁড়িয়ে মাথা চুলকাচ্ছে।আরো কিছু বলবে নাকি?!
আশাবরী আরেকবার ধন্যবাদ জানানোর ছলে ওর নাম জানতে চাইলো।ছেলেটি বোধহয় এরকম কিছুর জন্যেই আশা করেছিলো,বললো
-“আমি বেন টেলর।কাছেই একটা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে পার্টটাইম জব করি। আর রিসার্চওয়ার্কের জন্যে শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে সময় কাটাই।”বলে হাত বাড়িয়ে দিলো,
আশাবরী বেশ অবাক হলো।বললো
-“নাইস টু মিট ইউ,আমি আশাবরী।”
-“তোমার রিসার্চ এর বিষয়টা জানতে পারি?”
বেন টেলর বললো
-,”বলতে পারি কিন্তু কফি খেতে খেতে।”
আশাবরী একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেলো যেনো।কি বলবে ঠিক বুঝতে পারছেনা।
বেন আন্দাজ করলো কিছু,তারপর বললো -“অন্তত বাসস্টপ অব্দি হাঁটতে পারি,আশা করি তাতে আপত্তি হবেনা।”
আশাবরী খানিকটা কৃতজ্ঞতা আর খানিকটা আগ্রহ নিয়ে রাজি হলো।
তারপর দুজনে হেঁটে অনেকটা পথ একসাথে এলো।বেন বাস ধরবে।এখানে নির্দিষ্ট স্টপ ছাড়া বাস আসেনা।বেন এর স্টপ কোথায় তা আশাবরী জিজ্ঞেস করলোনা।
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বেন নিজে থেকেই অনেক কথা বলছিলো, ছেলেটা কথা বলতে ভালোবাসে। আশাবরী প্রথমটায় একটু অস্বস্তি বোধ করলেও বেনের বক্তব‍্যের বিষয়বস্তুতে বেশ উৎসাহ পাচ্ছিলো।
বেন টেলর অস্ট্রেলীয় আদিবাসী বংশোদ্ভূত।কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করছে,পাশাপাশি কাজ। পড়ার খাতিরেই অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন লাইব্রেরিতে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে।অস্ট্রেলিয়ার আদি ইতিহাস,এবরিজিনালদের বিষয়ে যেখানে যা নথি পায় সেগুলো পড়ে।
ওর কথা থেকে আশাবরী জানতে পারলো

– বিংশ শতকের প্রায় বেশিরভাগ সময় ধরে এবরিজিনালদের উন্নয়ন নীতির নামে তাদের শিশুদের মা-বাবার কাছ থেকে সরিয়ে পালিত বাবা-মা অর্থাৎ শহুরে শ্বেতাঙ্গ পরিবার বা মিশনারি স্কুলে দেয়া শুরু করে সরকার।আদিবাসী ইতিহাস ভুলিয়ে তাদের শিক্ষিত করা শুরু হয় আধুনিক শিক্ষায়। এর ফলে ওরা শেকড় ভুলে আধুনিকতার ছাঁচে নিজেদের গড়তে চাইলো।বেনও তাদের মধ্যে একজন।কিন্তু রাজনৈতিক চাপান-উতোর,আর বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এখন ওদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।যারা গতানুগতিক শিক্ষা লাভ করেছে তাদের মধ্যে অনেকেই ফিরে গেছে নিজের জায়গায়।অনেকেই ইতিহাস, ঐতিহ‍্য ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছে। তবু আজও বর্ণবিদ্বেষ আর নিম্ন জীবনযাত্রার মান,শিশুমৃত্যুর হার এসবই বিদ্যমান।
প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার বছরের এই ইতিহাস নিয়ে আশাবরী খুব উৎসুক ছিলো। আজ বেন টেলরকে পেয়ে উৎসাহ বেড়ে গেলো।আশাবরী নিজের আগ্রহের কথা বেন-কে জানাতেই বেন ওকে একটা এবরিজিনাল সাইট টুরের নিমন্ত্রণ দিয়ে ফেললো সাথে নিজের ইমেইল আইডি ও কন্টাক্ট নাম্বার।
বেন-কে আবারো ধন্যবাদ জানিয়ে আশাবরী বাড়ি ফেরার পথ ধরলো।
হাঁটতে হাঁটতে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো বেন ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।আশাবরী হাত নেড়ে রাস্তার বাঁক ঘুরলো।আবার ধ্রুপদের চিন্তা ভর করে আসছে। দুশ্চিন্তার নিঃশব্দ বিচরণ এতো প্রখর যে বাইরের সমস্ত শব্দের মাঝেও কুন্ডলি পাকিয়ে পাকিয়ে ঘিরে ধরে।হারিয়ে যাওয়া বলতে থাকে,খোঁজো।নৈঃশব্দের দামামা বাজতেই থাকে নিরন্তর।

দরজার লক খুলে ঘরে ঢুকেই লাউঞ্জে রাজীবের জ্যাকেট দেখতে পেলো।আজ বেশ তাড়াতাড়ি ফিরেছে। ডাইনিং টেবিলে একটা ফুলের তোড়া, আর কিছু চকোলেটস গিফট পেপারে মোড়ানো।ব্যাপার কি!আশাবরীর এসবে মন দিতে ইচ্ছে করছিলোনা। শাওয়ার এর আওয়াজ কানে এলো।ব্যাগটা নামিয়েই কফি মেকারে জল বসিয়ে দিলো।বারবার কফি খাওয়া হয় বলে কফি,ফিল্টার সব আগে থেকেই দেয়া ছিলো।আশাবরীর খুব খিদেও পাচ্ছিলো, দুজনের জন্যে একটু নাগেটস ফ্রাই করলো।
শাড়িটা পাল্টে হালকা কিছু পড়বে।
“আজ হঠাৎ শাড়ি!!স্পেশাল কিছু আছে!?”-রাজীবের কথায় চমকে উঠলো আশাবরী।কখন এসে দাঁড়িয়েছে টের পায়নি তো!
আশাবরী একটু টেরিয়ে বললো
-“মানুষটাই যখন স্পেশাল,তখন দিনটাও স্পেশাল হতে পারে বৈকি!”
রাজীব মনে মনে প্রমাদ গুনলো,কিছু ছিলো নাকি আজ!?ভুলে গেছে?যাকগে,আপাতত ম্যানেজ করা যাক।সুখবর পেলে হয়তো খুশি হয়ে যাবে।
রাজীব এগিয়ে গিয়ে আশাবরীর পেটের কাছে হাত দিলো,
-“উমম…স্পেশাল তো বটেই,শাড়িতে আরো বেশি…..”বলেই চুমু খেতে শুরু করলো।
“আই হ্যাভ বিন প্রোমোটেড!!এতো তাড়াতাড়ি,আমি ভাবতেই পারিনি!”
আশাবরী ফুলগুলো আর চকোলেটের আবির্ভাবের কারণটা এবার বুঝতে পারলো।কিন্তু খবরটা ঠিক যেন হৃদয়কে ছুঁয়ে যাচ্ছে না এই মুহূর্তে। রাজীব আশাবরীর ঠান্ডা ভাবটা এবার লক্ষ্য করলো।
-“কি হয়েছে তোর?কোনো সাড়া নেই,শরীর ঠিক আছে?”
আশাবরী উত্তর দিলোনা। টি-শার্ট টা গলিয়ে নিয়ে বললো
-“কংগ্রাচুলেশ্যান্স অন ইওর সাকসেস।প্রাউড অফ ইউ বেবি।”বলে একটা চুমু খেলো রাজীবের গালে।উত্তাপবিহীন।
দুজনে কফি আর স্ন্যাকস নিলো।রাজীব টিভিতে খেলা দেখতে বসলো।আর আশাবরী ল্যাপটপে,যদি কোনো খবর আসে।ধ্রুপদের মোবাইলে আবার কল করার চেষ্টা করলো।

“Hope is the thing with feathers
That perches in the soul
And sings the tune without the words
And never stops at all”

(ক্রমশঃ)

উদ্ধৃতি: Emily Dickinson
চিত্র: Pinterest

1 thought on “পর্ব ১৬: পরবাস”

Comments are closed.