এর আগে: দুঃস্বপ্ন দেখার অভ্যাসটা ধ্রুপদের এখনও পিছু ছাড়েনি। গ্রামের বাচ্চাদের নিয়ে সে বিভিন্ন আর্ট প্রোজেক্ট করায়। কলকাতার ওয়ার্কশপে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও এরিকের চিঠির অনুরোধে দ্বিধায় পড়ে।
Golpark, Kolkata.
শাওয়ারের জলের শব্দ আর প্লে-লিস্টে ‘সিগারেটস্ আফটার সেক্স‘ এর গান মিলেমিশে একটা মাদকতা ঘিরে ধরছিল আশাবরীকে,ওর স্নানসিক্ত শরীরটাকে।আয়নার সামনে দাঁড়াল কিছুক্ষণ।আবরণহীন শরীর,আর গানের মৃদু ছন্দে আশাবরীর ঘোর লেগেছে।
গ্রিক সিম্বল আর জাপানি ক্যালিগ্রাফি করা ট্যাটুগুলোকে ছুঁয়ে দেখল। স্নানশেষে জলের কণাগুলো মিলে ছোট ছোট ধারা হয়ে নেমে আসছিল আশাবরীর ঘাড় বেয়ে স্তনের সীমানায়। কিছু কিছু নাভি হয়ে উরুসন্ধিতে। নরম তোয়ালের আলতো চাপ তাদের শুষে নিচ্ছে। শুদ্ধ আশাবরী।
তিনের দশক ওর জীবনে এসেছে কিছুদিন।শরীরের ভাবধারা পাল্টাচ্ছে। চোখের নিচে কালো ছুঁয়েছে খানিকটা। ঠোঁট, স্তন ও নিতম্বে অভিজ্ঞতার সঞ্চার হয়েছে। দেহসৌষ্ঠব আরও দৃঢ় আর সংজ্ঞাবদ্ধ। শারীরিক সৌন্দর্যের এই স্বভাব পরিবর্তন বেশ রমনীয়।
এখন আশাবরীর নিজেকে অনেক পরিণত আর তীক্ষ্ণ মনে হয়।আয়নায় নিজেকে বিশ্লেষণ করছিল আশাবরী।
যদিও রঞ্জনীর ফ্ল্যাটে দুপুরবেলা লাঞ্চ করতে করতে রঞ্জনী ফুট কাটতে ছাড়েনি
-“আশি! সকালে অতগুলো লুচি খেয়েছিস এখন আবার একথালা ভাত! তারপর বলবি জিন্স কোমরে ওঠে না কেন!?”
-“কোথায় একথালা!? ওই তো দু চামচ নিলাম!” আশাবরী প্রতিবাদ করে। “পাতুরি টা জাস্ট একটু মাখার জন্য যতটা..” দুই বোনেই হেসে ওঠে।
আশাবরী আজ সারা দুপুর ওখানেই কাটিয়েছে, দিদির শরীরটা আজ একটু ভালো ছিল।জন্মদিনগুলো আশাবরী স্পেশাল কিছু করতে চায়না,শুধু কাছের মানুষেরা ঘিরে থাকুক,এটুকুই ভালো লাগে।দিদির হাসিটা মনে করে গুনগুন করে উঠল।
কলিংবেলের শব্দে মোহভঙ্গ হল আশাবরীর। মাথায় তোয়ালে জড়িয়ে দরজা খুলতেই দেখল মিষ্টি হাসি মেখে রাজীব দাঁড়িয়ে।
দু বছর আগে ওদের আলাপ হয় একটা পার্টিতে। আশাবরীর,কর্পোরেট দুনিয়ার এক বন্ধুর মাধ্যমে। মাসখানেকের মধ্যেই রাজীব প্রেম নিবেদন করে,তারপর থেকে এই বিশেষ দিনগুলো রাজীব বেশ উদ্যোগ নিয়ে পালন করে। আশাবরী আর তার প্রথম আলাপ,প্রথম চুমু,সবই রাজীব খুব যত্ন নিয়ে মনে রাখে। সারাক্ষন আশাবরীকে চমক দেবার জন্যে যেন মুখিয়ে থাকে। আশাবরীর বেশ ভালোই লাগে। যদিও মাঝে মধ্যে একটু বাড়াবাড়িও মনে হয়। সর্বক্ষণই যেন আশাবরীকে নিয়ে বিহ্বল হয়ে থাকা।
রাজীব গদগদ ভাবে “Happy Birthday To you”গেয়ে ওঠার চেষ্টা করল দরজায় দাঁড়িয়ে। কিন্তু তার আগেই আশাবরী ওকে টেনে ভিতরে নিয়ে এসেছে। দরজা বন্ধ করে দুহাতে ওর মুখটাকে নিজের কাছে টানল।
-” Wait! wait! গিফ্টটা তো দেখাতে দে!” রাজীবের মুখে লজ্জামাখা নিমরাজি মার্কা হাসি।
আশাবরী শুনলনা। রাজীবের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। দীর্ঘ চুম্বনের মাঝে একবার ঠোঁট সরিয়ে বলল
– “এই গিফ্টটা নিজের জন্মদিনে তোকে দিলাম”! বলে আবার ডুব দিল গভীর আবেশে। রাজীব এবার আলগোছে একটা আংটি পরিয়ে দিলো আশাবরীর বাম অনামিকায়।
-“সারপ্রাইজ!!!”
জন্মদিন উপলক্ষে পার্ক স্ট্রিটের এক রেস্তরাঁয় বন্ধুবান্ধব আর পত্রপত্রিকার এডিটরদের নিয়ে সান্ধ্যভোজের আসরটা বেশ জমে উঠেছিল। বাংলা হেরাল্ডের এডিটর মিঃ মিত্র আশাবরীর পূজোসংখ্যার লেখাটার ভূয়সী প্রশংসা করছিলেন।
“দক্ষিণ দুয়ার”। বেশ জনপ্রিয় একটা লেখা হয়েছে। আশাবরীর নিজস্ব পেজ ও ম্যাগাজিনের অফিসিয়াল পেজ, দুটোতেই পাঠকদের উচ্ছসিত কমেন্ট আশাতীত। দ্বিতীয় পর্ব লেখার আবেদনও চলে এসেছে ইতিমধ্যে। নতুন প্রজন্মের লেখক লেখিকাদের মধ্যে আশাবরীর জায়গাটা খুব স্বতন্ত্র আর জনপ্রিয়,তাই বেশিরভাগই ওর ফ্যান। আশাবরীও সেটা বেশ উপভোগ করে।
ডিনার সেরে বাড়ি ফেরার সময় নীহারিকার ফোন পেল।
-“So sorry Ashi, couldn’t make it this time….”. ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর বলল
– “শোন না, একটা রিকোয়েস্ট রাখবি প্লিজ?”
-“বলে ফেল” আশাবরী গাড়ির সিটটা একটু পিছনে হেলিয়ে আরাম করে বসল।
-“মিশা কে শনিবার একটু ওয়ার্কশপে ড্রপ করবি? এই দুদিন আমি গেছিলাম কিন্তু কাল আমারো একটা ইম্পর্টেন্ট মিটিং আছে আর অভিজিৎ তো ফ্লোরিডা গেছে জানিসই….” নীহারিকার গলায় সাজানো বিনয়।
– “ঠিক আছে নো প্রব্লেম” .. তোর আবার ইম্পর্টেন্ট মিটিং! জানা আছে সব’-ভেবে মনে মনে হাসল আশাবরী। আজ মনটা ফুরফুরে।
রাজীব গাড়ি চালাতে চালাতে বলল -“সামনের বছরের মধ্যেই কম্পানি অস্ট্রেলিয়া পাঠাবে বুঝলি?”
-“ওহ ড্যাম!” আশাবরী বিস্ময়ে আর আনন্দে চোখ বড় বড় করে।
-“তাই বুঝি তড়িঘড়ি অঙ্গুরীয় প্রদান?!”
রাজীবের সেন্স অফ হিউমার বরাবরই খারাপ।তাই বোধহয় বুঝতে পারলোনা।
-“তোকে ছাড়া আমি নড়ছিনা..কান্ট লিভ উইদাউট ইউ এনিমোর!” রাজীব বলে ওঠে।
-“আহা! মরদ শ্রেষ্ঠ তুমি,তোমা বিনে আমি যাই কোথা” আশাবরী রসিকতা করে রাজীবের গালে চকাম করে একটা চুমু খায় তারপর নিজের সিটে গা এলিয়ে বসে, ড্যাশবোর্ডে শাড়ি সমেত পা তুলে দিয়ে একটা সিগারেট ধরায়।
আলগোছে শাড়ি একটু নিচে নেমে গেলে, পায়ে পরা আফগানী কয়েন গাঁথা অ্যাঙ্কলেটের উপর রাস্তার আলোগুলি খেলা করতে থাকে। কয়েকটা গাড়ি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ভিতরের লোকজন হাঁ করে তাকায় কেউ কেউ। রাজীব একটু হাসি চেপে কাশে। আশাবরী ওর দিকে তাকিয়ে চোখ টেপে।তারপর গানের ভল্যুম বাড়িয়ে দেয়-
“When we are laughing to the microphone and singing,
with our sunglasses on, to our favourite songs.
As long as you’re with me You’ll be just fine,
Nothing’s gonna take you from my side..
Nothing’s gonna hurt you baby”….
ক্রমশঃ

Office er hajar Khana kajer majhe..”dokhino duar “sottei besh ga elano dupur gorano bikele er SWAD..ek ek ta porbo gile fellam..khub sundor
LikeLike
ধন্যবাদ। উৎসাহ পেলাম।
LikeLike
Sundor golpo, aro porar apekhai thaklm🙂
LikeLike
ধন্যবাদ। আগামী পর্ব এই শুক্রবার।
LikeLike
Pacy storyline…chiselled language..good read
LikeLike
We appreciate your view. Thank you so much.
LikeLike
Choluk choluk… length ta aktu bereche.bhalo lagche pore.
LikeLike
ধন্যবাদ, মতামত পেয়ে ভালো লাগলো।
LikeLike
ভাষা তরতরে! লেখা ঝরঝরে! প্লট গরগরে! হে হে!
LikeLike
অনেক উৎসাহ পেলাম। ধন্যবাদ।
LikeLike